বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন

বিজ্ঞপ্তি
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল আলোচিত সকাল ডট কম এর জন্য সারাদেশে সংবাদ প্রতিনিধি নিয়োগ করা হবে । আগ্রহীদের  alochitosokal24@gmail.com এ সিভি পাঠানোর জন্য আহবান করা হলো । মোবা- ০১৭১৫৫০৫২৪৪ ।
শিরোনাম:
ডিজিটাল আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন রাঙ্গামাটি জেলা শাখা গঠন উপলক্ষে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দারুল আজহার ইনস্টিটিউট এর হাতেলেখা প্রতিযোগিতা সম্পন্ন পটুয়াখালীর বাউফলে সন্ত্রাসী ভূমিদস্যুর প্রতারণার স্বিকার,প্রকৃত জমির মালিক রংপুরে জাতীয় বীমা দিবস উদযাপন তৃতীয়বারের মতো মেয়র হলেন আব্দুল কাদের সেক স্কুলছাত্র রাকিব হোসেন হত্যা মামলায় শাকিল আহম্মেদ মিঠুকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ সখিপুরে ইয়াবা দিয়ে ব্যবসায়ীকে ফাঁসাতে গিয়ে চার যুবক গ্রেফতার আত্মহত্যা মহাপাপ সহশিক্ষাহীন শিক্ষা পরিপূর্ণ শিক্ষা নয়-ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন একটি কুচক্রী মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে-ওবায়দুল কাদের

গলাচিপা উপজেলায় গোপাল সাধু ও অরুণ দাসের সন্ন্যাস জীবনের গল্প

গলাচিপা উপজেলায় গোপাল সাধু ও অরুণ দাসের সন্ন্যাস জীবনের গল্প

 

মু,হেলাল আহম্মেদ(রিপন)
পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধিঃ

ছন্নছাড়া জীবন নিয়ে এই দুই বৃদ্ধ বেশীটা সময় পার করেন রাস্তায়। এরা হলেন,গোপাল সাধু (৬৫) ও অরুণ দাসকে (৫২) পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার পৌরসভায় চেনে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল ও বটে। বাম দিক থেকে ছবির প্রথম জন গোপাল সাধু আর দ্বিতীয় জন অরুণ দাস। দু’জনই গলাচিপা পৌরসভায় বসবাস করেন। গোপাল সাধু হলেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকার মৃত দিনেশ দাসের ছেলে। আর অরুণ দাস হলেন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপা বাড়ির মৃত অনিল দাসের ছেলে।

দেখামেলে প্রায়াই সময় গোপাল সাধু ও অরুণ দাসের মধ্যে রয়েছে আত্নার এক গভীর সম্পর্ক। একজন আরেক জনকে দেখলেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। এমনই এক মুহূর্ত সাংবাদিকের ক্যামেরায় বন্দি হয়ে আছে। গলাচিপা হাসপাতাল রোডের একটি চায়ের দোকানে গোপাল সাধুকে দেখা মাত্রই অরুণ দাস তাকে জড়িয়ে ধরে। এতে আনন্দে আত্মহারা গোপাল সাধু তার উচ্চ স্বরের হাসিটা আর ধরে রাখতে পারলেন না। ঠিক তখনই সাংবাদিকের ক্যামেরায় বন্দি হন দু’জন। তবে দু’জনের জীবন-যাপনে রয়েছে অনেক মিল। তাদের কেউই বিবাহ করে সংসার জীবন করতে পারেন নি। দু’জনই মানুষের কাছ থেকে ১০/২০ টাকা নিয়ে দিনে ২/১ বার বুট-মুড়ি কিংবা অন্য কোন শুকনো খাবার খেয়ে কোন রকমে দিন কাটান। তারা তাদের আত্মীয় বা পরিচিত কারো ঘরের বারান্দায় কিংবা রান্না ঘরের পাশে অযতœ অবহেলায় রাত কাটান। এভাবেই চলে তাদের জীবন-যাপন। এতেই তারা বেজায় খুশি।

এমনটাও দেখা যায়, গোপাল সাধু ও অরুণ দাসের শরীরে যেন কোন রোগ-বালাই নেই। তারা সর্বদাই হাসি-খুশি থাকেন। তারা কখনোই মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করেন না। এজন্য সকলেই তাদেরকে ভালবাসেন। দুষ্ট ছেলে-মেয়েরা অনেক সময় তাদেরকে নিয়ে ঠাট্টা করে মজা উপভোগ করে।

মজার বিষয় হলো এই – গোপাল সাধু পরিচিত মানুষকে দেখে বলেন, ‘তুই বিয়া কইর‌্যা কী করলি? ভগবানেরে খোঁজ্, পাইয়া যাবি।’ আবার অরুণ দাস পরিচিত মানুষকে দেখে বলেন, ‘দোয়া করি, তুই ভাল থাহিস্। আশীর্বাদ করি, তুই ভাল থাহিস।’ কথাগুলো তাদের রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত হয়ে গেছে। এগুলো এখন লোকমুখের কমন কথা।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, গোপাল সাধু এক সময় গলাচিপা পোস্ট অফিসের ডাক পিয়ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। চাকরী থেকে অবসর নেয়ার পরেই তার এই সন্ন্যাস জীবন শুরু হয়েছে। জীবনে তিনি কেন বিবাহ করেন নি তার প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া যায় নি। তবে অনেকের ধারনা, তিনি ছোট বেলা থেকেই আধ্যাত্মিক জগতের মানুষ ছিলেন এবং সাদাসিধে জীবন-যাপন করতে পছন্দ করতেন। বেশিরভাগ সময়েই তাকে হাসপাতাল রোডে দেখা যায়।

অরুণ দাস এক সময় কাজ-কর্ম করে টাকা উপার্জন করতেন। প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি সব ধরনের কাজ-কর্ম করা থেকে বিরত রয়েছেন। তবে ক্ষুধার তাড়নায় অনেক সময় অন্যের দোকানে খাবারের পানি টেনে ১০/২০ টাকা পেয়ে তা দিয়ে তিনি কিছু শুকনো খাবার কিনে ক্ষুধা নিবারন করেন। আত্মীয়-স্বজনরা তাকে দিয়ে কোন কাজ-কর্ম করাতে না পারায় তার আর বিয়েশাদি করা হয় নি। উদাসীনতার কারনেই তাকে এখন সন্ন্যাস জীবন বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আপনজনরা বিরক্ত হয়ে তার কোন খোঁজই নিচ্ছেন না। বেশিরভাগ সময়েই তাকে ফার্ম্মেসী পট্টি ও সদর রোডে ঘুরতে দেখা যায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© সর্বস্বত্ত্ব সংরক্ষিত আলোচিত সকাল  - ২০২০
ডিজাইন ও ডেভেলপ সেরা ওয়েব